?> Uncategorized – হাজী গোলাম হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়https://hgh.edu.bdHazi Golam Hossain Girls High SchoolMon, 10 Feb 2025 05:09:00 +0000bn-BD hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0https://hgh.edu.bd/wp-content/uploads/2024/03/cropped-admin-ajax-32x32.jpegUncategorized – হাজী গোলাম হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়https://hgh.edu.bd3232মাধ্যমিকে ফিরছে সায়েন্স-আর্টস-কমার্স বিভাজন, পরিপত্র জারিhttps://hgh.edu.bd/2024/09/01/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%b8/https://hgh.edu.bd/2024/09/01/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%b8/#respondSun, 01 Sep 2024 15:35:50 +0000https://hgh.edu.bd/?p=1691নতুন শিক্ষাক্রমে বিভাগ বিভাজন উঠে গেলেও তা আবার ফিরেছে মাধ্যমিকের শিক্ষাক্রমে। মাধ্যমিকে ফিরছে সায়েন্স-আর্টস-কমার্স বিভাজন। ২০২৫ সালের যে শিক্ষার্থীরা দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হবেন অর্থাৎ বর্তমানে যারা নবম শ্রেণিতে পড়ছেন তাদের নতুন করে আগের শিক্ষাক্রমের বই দেয়া হবে। তাদের জন্য সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করা হবে যাতে তারা এক শিক্ষাবর্ষে তা শেষ করতে পারেন। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষাভিত্তিক এ পাঠ্যসূচি শিক্ষার্থীদের এক শিক্ষাবর্ষের মধ্যে শেষ করে এ শিক্ষার্থীরা ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব মোছাম্মদ রহিমা আক্তার স্বাক্ষরিত পরিপত্র থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়, জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০২২ এর বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা তথা অংশীজনদের অভিমত, গবেষণা ও জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে এই শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে শিক্ষকগণের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ঘাটতি, পাঠ্য বিষয়বস্তু ও মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে অস্পষ্টতা ও নেতিবাচক ধারণা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার প্রকট অভাব ইত্যাদি নানাবিধ বাস্তব সমস্যা বিদ্যমান থাকায় উক্ত শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নযোগ্য নয় মর্মে প্রতীয়মান।

এই পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক বিবেচনায় নিম্নোক্ত নির্দেশনা প্রদান করা হলো:

ক) প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে প্রাক-প্রাথমিক, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি এবং ১ম, ২য় ও ৩য় শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকের সাথে ধারাবাহিকতা রেখে ইতোমধ্যে ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণীর পাঠ্য পুস্তকগুলোর পান্ডুলিপি প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন করে মুদ্রণ করা হবে। এক্ষেত্রে পাঠদান পদ্ধতি ও মূল্যায়ণ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। যতদূর সম্ভব মূল্যায়ন পদ্ধতি পূর্বের জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ এর মতো হবে।

খ) ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ৯ম শ্রেণিতে চলমান পাঠ্যপুস্তকগুলো ২০২৪ সাল ব্যাপী বহাল থাকবে। ২০২৫ সালে যথাসম্ভব সংশোধিত ও পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হবে।

গ) ২০২৪ সালের অবশিষ্ট সময়ে ও বার্ষিক পরীক্ষায় ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ৯ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদেরকে সংশোধিত ও পরিমার্জিত মূল্যায়ন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হবে। উল্লেখ্য, শ্রেণি কার্যক্রমসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির প্রতিটির ৬টি করে বিষয়ভিত্তিক যে মূল্যায়ন কার্যক্রম অসম্পন্ন রয়েছে সেগুলো আর অনুষ্ঠিত হবে না। সংশোধিত ও পরিমার্জনকৃত মূল্যায়ন রূপরেখার ভিত্তিতে ডিসেম্বর নাগাদ ২০২৪ সালের ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সংশোধিত ও পরিমার্জিত মূল্যায়ন পদ্ধতির রূপরেখা শীঘ্রই বিদ্যালয়সমূহে প্রেরণ করা হবে।

ঘ) ২০২৫ সালে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা (২০২৬ সালের অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষা) নেয়ার লক্ষ্যে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা অব্যাহত রেখে পূর্বের জাতীয় শিক্ষাক্রম- ২০১২ এর আলোকে প্রণীত সংশোধিত

ও পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তকসমূহ (অর্থাৎ ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ব্যবহৃত পুস্তক) শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করা হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ অনুসারে প্রণীত শাখা-বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা ভিত্তিক এই পাঠ্যপুস্তকসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করা হবে যাতে শিক্ষার্থীরা এক শিক্ষাবর্ষের মধ্যেই পাঠ্যসূচিটি সম্পন্ন করতে পারে। পাঠদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতি জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ অনুসারে পরিচালিত হবে।

ঙ) যে সকল শিক্ষার্থী ২০২৫ সালে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হবে তাদেরকে জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ এর আলোকে প্রণীত শাখা ও গুচ্ছভিত্তিক সংশোধিত ও পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তকসমূহ (২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ব্যবহৃত) প্রদান করা হবে। এ সকল শিক্ষার্থী নবম ও দশম শ্রেণি মিলে দুই শিক্ষাবর্ষে সম্পূর্ণ পাঠ্যসূচি শেষে ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।

চ) শিক্ষাবিদ, শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ, প্যাডাগগ, মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট বিষয় বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও অভিভাবক প্রতিনিধিগণের সহযোগিতায় ২০২৫ সালে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম চূড়ান্ত করা হবে, যা ২০২৬ সাল থেকে পরিপূর্ণরূপে কার্যকর করা হবে।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হলো। অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর হবে।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০১/০৯/২০২৪

]]>
https://hgh.edu.bd/2024/09/01/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%b8/feed/0
৬ষ্ঠ-৯ম শ্রেণির অসম্পন্ন বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়ন আর হবে নাhttps://hgh.edu.bd/2024/09/01/%e0%a7%ac%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%a0-%e0%a7%af%e0%a6%ae-%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%a3%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8/https://hgh.edu.bd/2024/09/01/%e0%a7%ac%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%a0-%e0%a7%af%e0%a6%ae-%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%a3%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8/#respondSun, 01 Sep 2024 15:29:23 +0000https://hgh.edu.bd/?p=1688শ্রেণি কার্যক্রমসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির প্রতিটির ৬টি করে বিষয়ভিত্তিক যে মূল্যায়ন কার্যক্রম অসম্পন্ন রয়েছে সেগুলো আর অনুষ্ঠিত হবে না বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব মোছাম্মদ রহিমা আক্তার স্বাক্ষরিত পরিপত্র থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের অবশিষ্ট সময়ে ও বার্ষিক পরীক্ষায় ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ৯ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদেরকে সংশোধিত ও পরিমার্জিত মূল্যায়ন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হবে। উল্লেখ্য, শ্রেণি কার্যক্রমসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির প্রতিটির ৬টি করে বিষয়ভিত্তিক যে মূল্যায়ন কার্যক্রম অসম্পন্ন রয়েছে সেগুলো আর অনুষ্ঠিত হবে না। সংশোধিত ও পরিমার্জনকৃত মূল্যায়ন রূপরেখার ভিত্তিতে ডিসেম্বর নাগাদ ২০২৪ সালের ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সংশোধিত ও পরিমার্জিত মূল্যায়ন পদ্ধতির রূপরেখা শীঘ্রই বিদ্যালয়সমূহে প্রেরণ করা হবে।

পরিপত্রে বলা হয়, জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০২২ এর বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা তথা অংশীজনদের অভিমত, গবেষণা ও জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে এই শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে শিক্ষকগণের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ঘাটতি, পাঠ্য বিষয়বস্তু ও মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে অস্পষ্টতা ও নেতিবাচক ধারণা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার প্রকট অভাব ইত্যাদি নানাবিধ বাস্তব সমস্যা বিদ্যমান থাকায় উক্ত শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নযোগ্য নয় মর্মে প্রতীয়মান।

এই পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক বিবেচনায় নিম্নোক্ত নির্দেশনা প্রদান করা হলো:

ক) প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে প্রাক-প্রাথমিক, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি এবং ১ম, ২য় ও ৩য় শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকের সাথে ধারাবাহিকতা রেখে ইতোমধ্যে ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণীর পাঠ্য পুস্তকগুলোর পান্ডুলিপি প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন করে মুদ্রণ করা হবে। এক্ষেত্রে পাঠদান পদ্ধতি ও মূল্যায়ণ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। যতদূর সম্ভব মূল্যায়ন পদ্ধতি পূর্বের জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ এর মতো হবে।

খ) ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ৯ম শ্রেণিতে চলমান পাঠ্যপুস্তকগুলো ২০২৪ সাল ব্যাপী বহাল থাকবে। ২০২৫ সালে যথাসম্ভব সংশোধিত ও পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হবে।

গ) ২০২৪ সালের অবশিষ্ট সময়ে ও বার্ষিক পরীক্ষায় ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ৯ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদেরকে সংশোধিত ও পরিমার্জিত মূল্যায়ন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হবে। উল্লেখ্য, শ্রেণি কার্যক্রমসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির প্রতিটির ৬টি করে বিষয়ভিত্তিক যে মূল্যায়ন কার্যক্রম অসম্পন্ন রয়েছে সেগুলো আর অনুষ্ঠিত হবে না। সংশোধিত ও পরিমার্জনকৃত মূল্যায়ন রূপরেখার ভিত্তিতে ডিসেম্বর নাগাদ ২০২৪ সালের ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সংশোধিত ও পরিমার্জিত মূল্যায়ন পদ্ধতির রূপরেখা শীঘ্রই বিদ্যালয়সমূহে প্রেরণ করা হবে।

ঘ) ২০২৫ সালে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা (২০২৬ সালের অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষা) নেয়ার লক্ষ্যে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা অব্যাহত রেখে পূর্বের জাতীয় শিক্ষাক্রম- ২০১২ এর আলোকে প্রণীত সংশোধিত ও পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তকসমূহ (অর্থাৎ ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ব্যবহৃত পুস্তক) শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করা হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ অনুসারে প্রণীত শাখা-বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা ভিত্তিক এই পাঠ্যপুস্তকসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করা হবে যাতে শিক্ষার্থীরা এক শিক্ষাবর্ষের মধ্যেই পাঠ্যসূচিটি সম্পন্ন করতে পারে। পাঠদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতি জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ অনুসারে পরিচালিত হবে।

ঙ) যে সকল শিক্ষার্থী ২০২৫ সালে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হবে তাদেরকে জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ এর আলোকে প্রণীত শাখা ও গুচ্ছভিত্তিক সংশোধিত ও পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তকসমূহ (২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ব্যবহৃত) প্রদান করা হবে। এ সকল শিক্ষার্থী নবম ও দশম শ্রেণি মিলে দুই শিক্ষাবর্ষে সম্পূর্ণ পাঠ্যসূচি শেষে ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।

চ) শিক্ষাবিদ, শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ, প্যাডাগগ, মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট বিষয় বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও অভিভাবক প্রতিনিধিগণের সহযোগিতায় ২০২৫ সালে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম চূড়ান্ত করা হবে, যা ২০২৬ সাল থেকে পরিপূর্ণরূপে কার্যকর করা হবে।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হলো। অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর হবে।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০১/০৯/২০২৪

]]>
https://hgh.edu.bd/2024/09/01/%e0%a7%ac%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%a0-%e0%a7%af%e0%a6%ae-%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%a3%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8/feed/0
নিরাপত্তা নিশ্চিত ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে নাhttps://hgh.edu.bd/2024/07/24/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%80%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be/https://hgh.edu.bd/2024/07/24/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%80%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be/#respondWed, 24 Jul 2024 03:17:12 +0000https://hgh.edu.bd/?p=1624সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, শিক্ষার্থীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়টি এই মুহূর্তে বিবেচনা করা হবে না।

বুধবার (২৪ জুলাই) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান শিক্ষামন্ত্রী।

কোটা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা দু-দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন। সব মিলে পরিস্থিতি এখন কি, এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়টি এই মুহূর্তে বিবেচনা করতে পারছি না। আর ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করাটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বলতে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ নয়, আমাদেরকে তো বিদ্যালয়গুলো নিয়েও কাজ করতে হয়। আমরা পরিস্থিতি এখনও পর্যবেক্ষণ করছি।

মন্ত্রী বলেন, আরেকটি বিষয় আছে, আমাদের তো উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলমান। আমাদের এখন প্রথম যে অগ্রাধিকার সেটি হচ্ছে, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাটি পুনরায় যাতে শুরু করা যেতে পারে। সেই পরিস্থিতি এখন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেগুলো আছে, সেগুলোর জন্য আলাদাভাবে ভাবতে হবে। কোন প্রক্রিয়ায়, কীভাবে…শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কথা বলা হচ্ছে, নিরাপত্তার কথা বলা হচ্ছে। সেগুলো তো আগে নিশ্চিত করতে হবে। তাড়াহুড়ো করে খুলে দিয়ে আবারও অরাজকতা করা সেটা যেমনি করে হোক চাচ্ছি না কেউই।

মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, প্রথম থেকে দেখা গেছে, ঘোষণা হচ্ছে একটা আর কাজ হচ্ছে আরেকটা। ঘোষণাকারীরা বলছেন, শান্তিপূর্ণভাবে এই সেই করা হবে, এটা যারা বাস্তবায়ন করছেন তারা কিন্তু সেটা শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ার মধ্যে রাখছেন না। এখানে একটা অশুভ প্রক্রিয়া আমরা দেখতে পাচ্ছি। সেগুলো বিবেচনা করতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবারের এইচএসসি পরীক্ষা এরইমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী সপ্তাহের বিষয়ে আমরা বসেছি। প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে, রাজধানী ঢাকা এবং তৎসংলগ্ন ঢাকা জেলা বা পার্শ্ববর্তী যে জেলাগুলো আছে সেগুলোর একটা পরিস্থিতি, আবার অন্যান্য জেলা যেগুলো আছে সেখানে আরেকরকম পরিস্থিতি। সেটা আলাদাভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

যেহেতু পরীক্ষাটা সারাদেশে এক সঙ্গে হয়ে থাকে। সেজন্য পরীক্ষার বিষয়টা আমাদের কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে এই মুহূর্তে, বলেন মন্ত্রী।

সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসকরা কারফিউ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন জানিয়ে তিনি বলেন, সেখান থেকে যে সিদ্ধান্তটা পাবো সেটা পর্যালোচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের আলটিমেটামের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আলটিমেটাম দিয়ে কেউ যাতে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে না পারে, আমরা সেটা অনুরোধ করবো। আলটিমেটাম দেওয়ার পর যখন হত্যাযজ্ঞ হয়, নরহত্যা হয়, গলাকেটে দেওয়ার মতো কাজ হয়, রগ কেটে দেওয়ার মতো কাজ হয়, জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়ার মতো কাজ হয়। তখন আলটিমেটাম যারা দিচ্ছেন তাদের কাছে তো সবার প্রশ্ন থাকবে, আসলে এসব আলটিমেটামের উদ্দেশ্য কি এটি।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২৪/০৭/২০২৪

]]>
https://hgh.edu.bd/2024/07/24/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%80%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be/feed/0
মূল্যায়নে পরীক্ষাও, যেভাবে প্রশ্নপত্র তৈরি হবেhttps://hgh.edu.bd/2024/03/29/%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae-%e0%a6%ae%e0%a7%82%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a7%9f/https://hgh.edu.bd/2024/03/29/%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae-%e0%a6%ae%e0%a7%82%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a7%9f/#respondFri, 29 Mar 2024 03:10:31 +0000https://hgh.edu.bd/?p=1185শুধু দশমের পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে মাধ্যমিকের পাবলিক পরীক্ষা
প্রতিটি বিষয়ে এক কর্মদিবসে মূল্যায়ন হবে পাঁচ ঘণ্টায়
নম্বর নয়, রিপোর্ট কার্ডে শিখনকালীন মূল্যায়ন ও পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়নের ফল
তিন বিষয়ে বেশি খারাপ করলে কলেজে উত্তীর্ণ নয়
পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়ন কাঠামোর সঙ্গে মিল রেখে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণির

মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে

নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী দশম শ্রেণি শেষে মাধ্যমিকে যে পাবলিক পরীক্ষা বা মূল্যায়ন হবে, তাতে লিখিত পরীক্ষাও থাকছে। প্রকল্পভিত্তিক কাজ, অ্যাসাইনমেন্ট সমস্যার সমাধান ইত্যাদির পাশাপাশি একটি অংশের মূল্যায়ন হবে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে। তবে এই লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তর দেওয়ার ধরন এখনকার মতো মুখস্থনির্ভর হবে না। একজন শিক্ষার্থী যেসব অভিজ্ঞতা অর্জন করবে, সেগুলোই মূলত সৃজনশীল উপায়ে লিখতে বলা হবে। এ জন্য প্রশ্নও করা হবে তার আলোকে।

নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) পাবলিক পরীক্ষার যে মূল্যায়ন কাঠামোর খসড়া করেছে, তাতে এভাবে লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এ বছর যারা নবম শ্রেণিতে পড়ছে, তারাই নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী প্রথমবারের মতো পাবলিক পরীক্ষা দেবে। আগামী বছর দশম শ্রেণি শেষ করে তারা এই পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেবে। এ জন্য চলতি বছরের শেষে পরীক্ষামূলকভাবে পাবলিক পরীক্ষার আদলে নবম শ্রেণির বার্ষিক মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এনসিটিবি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এখন এই খসড়ার ভিত্তিতে মূল্যায়ন কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাবলিক পরীক্ষাগুলো হয় শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর সমন্বয় কমিটির প্রধান ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার বলেন, মূল্যায়নপদ্ধতি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলাপ–আলোচনা চলছে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি ভালো কিছু হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

গত বছর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। প্রথম বছর প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন এই শিক্ষাক্রম শুরু হয়। আর এ বছর নতুন করে দ্বিতীয়, তৃতীয়, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতেও চালু হয়েছে এই শিক্ষাক্রম। পর্যায়ক্রমে ২০২৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণিতে চালু হবে নতুন শিক্ষাক্রম। এই শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের বড় অংশ হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে (শিক্ষাকালীন)। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পুরোটাই মূল্যায়ন হবে সারা বছর ধরে চলা বিভিন্ন ধরনের শিখন কার্যক্রমের ভিত্তিতে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত কিছু অংশের মূল্যায়ন হবে শিখনকালীন এবং বাকি অংশের মূল্যায়ন হবে সামষ্টিকভাবে, মানে পরীক্ষার ভিত্তিতে।

নতুন শিক্ষাক্রমে মূল্যায়ন কাঠামো নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অস্পষ্টতা আছে। অভিভাবকদের একটি অংশ মূল্যায়নে লিখিত পরীক্ষা রাখার দাবি জানিয়ে আসছে। এমন অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে মূল্যায়ন কাঠামোয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে আসছিল। নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নপদ্ধতি চূড়ান্ত করতে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটিও করে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে মূল্যায়নপদ্ধতির খসড়া তৈরি করেছে এনসিটিবি। সেখানে নতুন শিক্ষাক্রমের ভিত্তিতে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেটের মতো পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়ন কেমন করে হবে, সেটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

জানতে চাইলে এনসিটিবির সদস্য অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান বলেন, তাঁরা মূল্যায়ন কাঠামোর খসড়াটি নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নপদ্ধতি চূড়ান্ত করার জন্য গঠিত কমিটির সামনে ইতিমধ্যে উপস্থাপন করেছেন। তাঁরা আশা করছেন, খুব তাড়াতাড়িই সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে এটি চূড়ান্ত হবে।

দশম শ্রেণি শেষে পাবলিক পরীক্ষার নাম কী

এনসিটিবির সূত্রমতে, দশম শ্রেণি শেষে হবে এই পাবলিক পরীক্ষা। তবে নামটি এখনকার মতো মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষাও থাকতে পারে, আবার ভিন্ন নামও হতে পারে। নামের বিষয়টি এখনো ঠিক হয়নি। এত দিন নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে এসএসসি পরীক্ষা হতো। নতুন শিক্ষাক্রমে শুধু দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে হবে এই মূল্যায়ন বা পরীক্ষা। ১০টি বিষয়ের প্রতিটির ওপরই হবে এই মূল্যায়ন। এর মধ্যে একটি অংশের মূল্যায়ন হবে বিদ্যালয়েই শিখনকালীন। বাকি আরেকটি অংশের মূল্যায়ন হবে কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীন। এখনকার মতোই কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা ঠিক করে হবে এই পরীক্ষা। শিখনকালীন ও পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়ন সমান গুরুত্ব পাবে।

মূল্যায়নের খসড়া অনুযায়ী, কেন্দ্রীয়ভাবে যে পরীক্ষা বা মূল্যায়ন কার্যক্রম হবে, তাতে প্রতিটি বিষয়ের মূল্যায়ন হবে এক কর্মদিবসের সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টায়। বিরতি দিয়ে হবে এই পরীক্ষা। এর মধ্যে একটি অংশের মূল্যায়নে অনুসন্ধান, প্রদর্শন, মডেল তৈরি, উপস্থাপন, পরীক্ষণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন ইত্যাদি বিষয় থাকবে। মানে হাতে-কলমে শেখার বিষয়টি মূল্যায়ন করা হবে। আরেকটি অংশে থাকবে লিখিত পরীক্ষা। সেখানে লিখিত উত্তরপত্র ব্যবহার করা হবে। লিখিত পরীক্ষার অংশ বিষয়ভেদে এক ঘণ্টা থেকে দুই ঘণ্টাও হতে পারে। সময়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়ন কাঠামোর সঙ্গে মিল রেখে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণিতে মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বিভিন্ন শ্রেণিতে বছরজুড়ে শিখনকালীন মূল্যায়নের পাশাপাশি বছরে দুটি সামষ্টিক মূল্যায়ন হবে। এর মধ্যে একটি হবে শিক্ষাবর্ষের ৬ মাস পর এবং আরেকটি হবে ১২ মাস পর। বিদ্যালয়ের এসব মূল্যায়নেও এক দিনে এক বিষয়ের মূল্যায়ন হবে। মূলত স্কুল সময়টিকে বিবেচনায় নিয়ে পাঁচ ঘণ্টার বিষয়টি ঠিক করা হয়েছে।

নতুন শিক্ষাক্রম ও মূল্যায়নপদ্ধতি তৈরির সঙ্গে যুক্ত আছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও পরিমার্জন কোর কমিটির সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক এম তারিক আহসান। তিনি বলেন, নতুন পদ্ধতির মূল্যায়নে একটি অংশে লিখিত পরীক্ষা থাকলেও এখনকার মতো মুখস্থনির্ভর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। একজন শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে কতটুকু পারদর্শিতা অর্জন করতে পারছে, সেটিই মূলত সৃজনশীল উপায়ে লিখতে হবে। এ জন্য প্রশ্নপত্রের পদ্ধতিও হবে ভিন্ন।

অধ্যাপক এম তারিক আহসান বলেন, প্রতিটি বিষয়ে এক কর্মদিবসের পাঁচ ঘণ্টায় মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্তটি এসেছে বাস্তবতার ভিত্তিতে। কারণ, ইতিমধ্যে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে ছয় ঘণ্টা ধরে সামষ্টিক মূল্যায়ন পরিচালনা করা হয়েছিল। এমনকি একটি বিষয়ে একাধিক দিন এবং একই দিনে একাধিক বিষয়ে মূল্যায়ন কার্যক্রমও হয়েছে। তাতে শিক্ষার্থীদের ওপর কিছুটা চাপ পড়ে। সেটি বিবেচনায় নিয়ে এক দিনে এক বিষয়ে পাঁচ ঘণ্টায় মূল্যায়ন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি এমনভাবে করা হচ্ছে তাতে শিক্ষার্থীরা চাপ অনুভব করবে না। আর এই পাঁচ ঘণ্টায় শিক্ষার্থীরা কেবল লিখিত পরীক্ষাও দেবে না। তারা নানা রকম হাতে–কলমে কাজেও নিয়োজিত থাকবে এবং বিরতিও থাকবে।

যেভাবে প্রশ্নপত্র তৈরি হবে

এনসিটিবির খসড়া মূল্যায়ন কাঠামো অনুযায়ী, বরাদ্দ করা সময় এবং শিক্ষার্থীর সক্ষমতা বিবেচনা করে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নপত্র তৈরি হবে। শিক্ষা বোর্ডের নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নপত্র প্রণয়নকারী ও পরিশোধনকারীরা (মডারেটর) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, চেক লিস্টসহ প্রশ্নপত্র তৈরি করবেন। এই চেক লিস্টে দুটি অংশ থাকবে। পর্যবেক্ষণ ছক, যা প্রত্যাবেক্ষক (পরীক্ষার কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক) কেন্দ্রে শিক্ষার্থীর পারদর্শিতা (উপস্থাপন, প্রদর্শনী ইত্যাদি) পর্যবেক্ষণ করে একটি অংশ পূরণ করবেন। আরেকটি অংশ পরীক্ষক লিখিত মূল্যায়ন করে পূরণ করবেন।

পরীক্ষক কোনো শিক্ষার্থীর পর্যবেক্ষণ ছকে প্রাপ্ত তথ্য এবং লিখিত উত্তরপত্র মূল্যায়ন ছকের তথ্য বিবেচনা করে নৈপুণ্য অ্যাপের (মূল্যায়নের ফলাফলের তথ্য সংরক্ষণ হয় এই অ্যাপে) পারদর্শিতার নির্দেশকে (পিআই) ইনপুট দেবেন। তাতে এখনকার মতো নম্বর দেওয়ার ব্যবস্থা নেই।

এনসিটিবি বলছে, প্রতিটি পরীক্ষার শুরুতে শিক্ষার্থীর কী কী পারদর্শিতা মূল্যায়ন করা হবে, তা দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট জানিয়ে দেবেন। বিষয়ের ভিন্নতা অনুযায়ী কাগজ, পরীক্ষণ, মডেল, নকশা, গ্রাফ ইত্যাদি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের ব্যবস্থা থাকবে পরীক্ষার কেন্দ্রে। শিক্ষা বোর্ডই কেন্দ্র ঠিক করবে। তবে শিক্ষার্থীদের নিজ প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্র হবে না। এখনকার মতো অন্য প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্র হবে। মোদ্দাকথা, পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থাপনার কাজটি এখনকার মতোই শিক্ষা বোর্ডগুলো করবে।

এদিকে পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আগেই ‘রিসোর্স পুল’ গঠন করা হবে। আগামী মে মাসে কর্মশালার মাধ্যমে তাদের প্রস্তুত করা হবে।

শিক্ষার্থীর বৈচিত্র্য, চাহিদা ও সক্ষমতা বিবেচনা করে মূল্যায়ন বা পরীক্ষা কার্যক্রমের কৌশলে নমনীয়তা ও বিকল্প উপায়ও রাখা হবে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি।

নবম শ্রেণির ভিত্তিতে নিবন্ধন

এখন একজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারবে কি না, সেটি নির্ভর করে দশম শ্রেণিতে হওয়া নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষার ভিত্তিতে। কিন্তু নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে একজন পরীক্ষার্থী দশম শ্রেণি শেষে পাবলিক পরীক্ষা দিতে পারবে কি না, সেটি নির্ভর করবে নবম শ্রেণিতে বিদ্যালয়ে হওয়া শিখনকালীন মূল্যায়নের ওপর। যদি কোনো শিক্ষার্থী নবম শ্রেণিতে শিখনকালীন মূল্যায়নে ভালো করে, তাহলে দশম শ্রেণিতে উঠবে এবং তার আলোকে নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) হবে। তারাই পাবলিক পরীক্ষা দেবে। এখনকার মতো নির্বাচনী পরীক্ষা হবে না। তবে দশম শ্রেণিতেও শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে।

এনসিটিবি বলছে, দশম শ্রেণির শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে এনসিটিবি প্রণীত নির্দেশিকা অনুসরণ করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকেরা শিখনকালীন মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। প্রতিটি শিখন অভিজ্ঞতা শেষে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক প্রমাণের ভিত্তিতে পারদর্শিতার নির্দেশক (পিআই) অনুযায়ী নৈপুণ্য অ্যাপে ইনপুট দেবেন এবং প্রমাণগুলো সংরক্ষণ করবেন। তারপর শিক্ষা বোর্ড নির্বাচিত বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়নকারীরা (সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরের) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে দৈবচয়নের ভিত্তিতে নমুনা নিয়ে শিখনকালীন মূল্যায়নের প্রমাণ যাচাই করবেন।

সাত স্কেলে রিপোর্ট কার্ড

এনসিটিবি খসড়া মূল্যায়ন কাঠামো অনুযায়ী, মূল্যায়ন বা পরীক্ষা শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্রান্সক্রিপ্ট ও রিপোর্ট কার্ড তৈরি হবে। ট্রান্সক্রিপ্টে একজন শিক্ষার্থী প্রতিটি বিষয়ে পারদর্শিতা কতটুকু অর্জন করল, তার তথ্য উল্লেখ থাকবে। আর রিপোর্ট কার্ডে শিখনকালীন মূল্যায়ন ও পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়নের জন্য আলাদাভাবে সাতটি স্কেলে ফলাফল প্রকাশিত হবে। সাতটি ছকের মাধ্যমে এই সাতটি স্কেল বোঝানো হয়েছে। নির্ধারিত পারদর্শিতা অনুযায়ী ছকগুলো পূরণ করা হবে। তাতে যোগ্যতা অনুযায়ী কোনো শিক্ষার্থীর ছয়টি ঘরও পূরণ হবে, আবার কারও বেলায় তা কমবেশি হবে। ধরা যাক, একজন শিক্ষার্থী নির্ধারিত সূচক অনুযায়ী ছয়টি পারদর্শিতা (পারফরম্যান্স) অর্জন করেছে, তাহলে ছয়টি ছক পূরণ করে বাকি একটি খালি রাখা হবে। এই রিপোর্ট কার্ডই সনদ হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিন বিষয়ে বেশি খারাপ করলে কলেজে উত্তীর্ণ নয়
নতুন মূল্যায়ন কাঠামোর খসড়া তৈরির সঙ্গে যুক্ত একজন শিক্ষক বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যদি তিনটি বিষয়ে পারদর্শিতার প্রারম্ভিক স্তরে থাকে, তাহলে তারা ওপরের ক্লাসে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে না। অর্থাৎ দশম শ্রেণি শেষে যে পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, তাতে কোনো শিক্ষার্থী তিন বিষয়ে এমন বেশি খারাপ করলে সে কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে না।

শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, মূল্যায়নে মিশ্র পদ্ধতি হতে পারে। কিন্তু সেটি অবশ্যই কার্যকরভাবে করতে হবে। লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন এমনভাবে করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীর জ্ঞান, বুঝতে ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা ইত্যাদি যাচাই করা যায়। আর ধারাবাহিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হবে।
সূত্রঃ প্রথম আলো।

]]>
https://hgh.edu.bd/2024/03/29/%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae-%e0%a6%ae%e0%a7%82%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a7%9f/feed/0
এসএসসি পরীক্ষার নাম পরিবর্তন হতে পারেhttps://hgh.edu.bd/2024/03/29/%e0%a6%8f%e0%a6%b8%e0%a6%8f%e0%a6%b8%e0%a6%b8%e0%a6%bf-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ac/https://hgh.edu.bd/2024/03/29/%e0%a6%8f%e0%a6%b8%e0%a6%8f%e0%a6%b8%e0%a6%b8%e0%a6%bf-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ac/#respondFri, 29 Mar 2024 03:06:40 +0000https://hgh.edu.bd/?p=1183দশম শ্রেণির পড়ালেখা শেষে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। তবে নতুন শিক্ষাক্রমে এ পাবলিক পরীক্ষার নাম পরিবর্তন করা হতে পারে। নতুন নাম কি হবে তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।

শুধু দশমের পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে মাধ্যমিকের পাবলিক পরীক্ষা
প্রতিটি বিষয়ে এক কর্মদিবসে মূল্যায়ন হবে পাঁচ ঘণ্টায়
নম্বর নয়, রিপোর্ট কার্ডে শিখনকালীন মূল্যায়ন ও পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়নের ফল
তিন বিষয়ে বেশি খারাপ করলে কলেজে উত্তীর্ণ নয়
পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়ন কাঠামোর সঙ্গে মিল রেখে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণির মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে
নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী দশম শ্রেণি শেষে মাধ্যমিকে যে পাবলিক পরীক্ষা বা মূল্যায়ন হবে, তাতে লিখিত পরীক্ষাও থাকছে। প্রকল্পভিত্তিক কাজ, অ্যাসাইনমেন্ট সমস্যার সমাধান ইত্যাদির পাশাপাশি একটি অংশের মূল্যায়ন হবে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে। তবে এই লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তর দেওয়ার ধরন এখনকার মতো মুখস্থনির্ভর হবে না। একজন শিক্ষার্থী যেসব অভিজ্ঞতা অর্জন করবে, সেগুলোই মূলত সৃজনশীল উপায়ে লিখতে বলা হবে। এ জন্য প্রশ্নও করা হবে তার আলোকে।

নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) পাবলিক পরীক্ষার যে মূল্যায়ন কাঠামোর খসড়া করেছে, তাতে এভাবে লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এ বছর যারা নবম শ্রেণিতে পড়ছে, তারাই নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী প্রথমবারের মতো পাবলিক পরীক্ষা দেবে। আগামী বছর দশম শ্রেণি শেষ করে তারা এই পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেবে। এ জন্য চলতি বছরের শেষে পরীক্ষামূলকভাবে পাবলিক পরীক্ষার আদলে নবম শ্রেণির বার্ষিক মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

এনসিটিবি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এখন এই খসড়ার ভিত্তিতে মূল্যায়ন কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
ঢাকাঃ দশম শ্রেণির পড়ালেখা শেষে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। তবে নতুন শিক্ষাক্রমে এ পাবলিক পরীক্ষার নাম পরিবর্তন করা হতে পারে। নতুন নাম কি হবে তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।

শুধু দশমের পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে মাধ্যমিকের পাবলিক পরীক্ষা
প্রতিটি বিষয়ে এক কর্মদিবসে মূল্যায়ন হবে পাঁচ ঘণ্টায়
নম্বর নয়, রিপোর্ট কার্ডে শিখনকালীন মূল্যায়ন ও পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়নের ফল
তিন বিষয়ে বেশি খারাপ করলে কলেজে উত্তীর্ণ নয়
পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়ন কাঠামোর সঙ্গে মিল রেখে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণির মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে
নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী দশম শ্রেণি শেষে মাধ্যমিকে যে পাবলিক পরীক্ষা বা মূল্যায়ন হবে, তাতে লিখিত পরীক্ষাও থাকছে। প্রকল্পভিত্তিক কাজ, অ্যাসাইনমেন্ট সমস্যার সমাধান ইত্যাদির পাশাপাশি একটি অংশের মূল্যায়ন হবে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে। তবে এই লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তর দেওয়ার ধরন এখনকার মতো মুখস্থনির্ভর হবে না। একজন শিক্ষার্থী যেসব অভিজ্ঞতা অর্জন করবে, সেগুলোই মূলত সৃজনশীল উপায়ে লিখতে বলা হবে। এ জন্য প্রশ্নও করা হবে তার আলোকে।

নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) পাবলিক পরীক্ষার যে মূল্যায়ন কাঠামোর খসড়া করেছে, তাতে এভাবে লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এ বছর যারা নবম শ্রেণিতে পড়ছে, তারাই নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী প্রথমবারের মতো পাবলিক পরীক্ষা দেবে। আগামী বছর দশম শ্রেণি শেষ করে তারা এই পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেবে। এ জন্য চলতি বছরের শেষে পরীক্ষামূলকভাবে পাবলিক পরীক্ষার আদলে নবম শ্রেণির বার্ষিক মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

এনসিটিবি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এখন এই খসড়ার ভিত্তিতে মূল্যায়ন কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাবলিক পরীক্ষাগুলো হয় শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর সমন্বয় কমিটির প্রধান ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার বলেন, মূল্যায়নপদ্ধতি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলাপ–আলোচনা চলছে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি ভালো কিছু হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

গত বছর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। প্রথম বছর প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন এই শিক্ষাক্রম শুরু হয়। আর এ বছর নতুন করে দ্বিতীয়, তৃতীয়, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতেও চালু হয়েছে এই শিক্ষাক্রম। পর্যায়ক্রমে ২০২৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণিতে চালু হবে নতুন শিক্ষাক্রম। এই শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের বড় অংশ হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে (শিক্ষাকালীন)। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পুরোটাই মূল্যায়ন হবে সারা বছর ধরে চলা বিভিন্ন ধরনের শিখন কার্যক্রমের ভিত্তিতে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত কিছু অংশের মূল্যায়ন হবে শিখনকালীন এবং বাকি অংশের মূল্যায়ন হবে সামষ্টিকভাবে, মানে পরীক্ষার ভিত্তিতে।

নতুন শিক্ষাক্রমে মূল্যায়ন কাঠামো নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অস্পষ্টতা আছে। অভিভাবকদের একটি অংশ মূল্যায়নে লিখিত পরীক্ষা রাখার দাবি জানিয়ে আসছে। এমন অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে মূল্যায়ন কাঠামোয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে আসছিল। নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নপদ্ধতি চূড়ান্ত করতে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটিও করে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে মূল্যায়নপদ্ধতির খসড়া তৈরি করেছে এনসিটিবি। সেখানে নতুন শিক্ষাক্রমের ভিত্তিতে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেটের মতো পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়ন কেমন করে হবে, সেটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
জানতে চাইলে এনসিটিবির সদস্য অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান বলেন, তাঁরা মূল্যায়ন কাঠামোর খসড়াটি নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নপদ্ধতি চূড়ান্ত করার জন্য গঠিত কমিটির সামনে ইতিমধ্যে উপস্থাপন করেছেন। তাঁরা আশা করছেন, খুব তাড়াতাড়িই সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে এটি চূড়ান্ত হবে।

দশম শ্রেণি শেষে পাবলিক পরীক্ষার নাম কী

এনসিটিবির সূত্রমতে, দশম শ্রেণি শেষে হবে এই পাবলিক পরীক্ষা। তবে নামটি এখনকার মতো মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষাও থাকতে পারে, আবার ভিন্ন নামও হতে পারে। নামের বিষয়টি এখনো ঠিক হয়নি। এত দিন নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে এসএসসি পরীক্ষা হতো। নতুন শিক্ষাক্রমে শুধু দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে হবে এই মূল্যায়ন বা পরীক্ষা। ১০টি বিষয়ের প্রতিটির ওপরই হবে এই মূল্যায়ন। এর মধ্যে একটি অংশের মূল্যায়ন হবে বিদ্যালয়েই শিখনকালীন। বাকি আরেকটি অংশের মূল্যায়ন হবে কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীন। এখনকার মতোই কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা ঠিক করে হবে এই পরীক্ষা। শিখনকালীন ও পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়ন সমান গুরুত্ব পাবে।

মূল্যায়নের খসড়া অনুযায়ী, কেন্দ্রীয়ভাবে যে পরীক্ষা বা মূল্যায়ন কার্যক্রম হবে, তাতে প্রতিটি বিষয়ের মূল্যায়ন হবে এক কর্মদিবসের সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টায়। বিরতি দিয়ে হবে এই পরীক্ষা। এর মধ্যে একটি অংশের মূল্যায়নে অনুসন্ধান, প্রদর্শন, মডেল তৈরি, উপস্থাপন, পরীক্ষণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন ইত্যাদি বিষয় থাকবে। মানে হাতে-কলমে শেখার বিষয়টি মূল্যায়ন করা হবে। আরেকটি অংশে থাকবে লিখিত পরীক্ষা। সেখানে লিখিত উত্তরপত্র ব্যবহার করা হবে। লিখিত পরীক্ষার অংশ বিষয়ভেদে এক ঘণ্টা থেকে দুই ঘণ্টাও হতে পারে। সময়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়ন কাঠামোর সঙ্গে মিল রেখে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণিতে মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বিভিন্ন শ্রেণিতে বছরজুড়ে শিখনকালীন মূল্যায়নের পাশাপাশি বছরে দুটি সামষ্টিক মূল্যায়ন হবে। এর মধ্যে একটি হবে শিক্ষাবর্ষের ৬ মাস পর এবং আরেকটি হবে ১২ মাস পর। বিদ্যালয়ের এসব মূল্যায়নেও এক দিনে এক বিষয়ের মূল্যায়ন হবে। মূলত স্কুল সময়টিকে বিবেচনায় নিয়ে পাঁচ ঘণ্টার বিষয়টি ঠিক করা হয়েছে।
নতুন শিক্ষাক্রম ও মূল্যায়নপদ্ধতি তৈরির সঙ্গে যুক্ত আছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও পরিমার্জন কোর কমিটির সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক এম তারিক আহসান। তিনি বলেন, নতুন পদ্ধতির মূল্যায়নে একটি অংশে লিখিত পরীক্ষা থাকলেও এখনকার মতো মুখস্থনির্ভর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। একজন শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে কতটুকু পারদর্শিতা অর্জন করতে পারছে, সেটিই মূলত সৃজনশীল উপায়ে লিখতে হবে। এ জন্য প্রশ্নপত্রের পদ্ধতিও হবে ভিন্ন।

অধ্যাপক এম তারিক আহসান বলেন, প্রতিটি বিষয়ে এক কর্মদিবসের পাঁচ ঘণ্টায় মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্তটি এসেছে বাস্তবতার ভিত্তিতে। কারণ, ইতিমধ্যে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে ছয় ঘণ্টা ধরে সামষ্টিক মূল্যায়ন পরিচালনা করা হয়েছিল। এমনকি একটি বিষয়ে একাধিক দিন এবং একই দিনে একাধিক বিষয়ে মূল্যায়ন কার্যক্রমও হয়েছে। তাতে শিক্ষার্থীদের ওপর কিছুটা চাপ পড়ে। সেটি বিবেচনায় নিয়ে এক দিনে এক বিষয়ে পাঁচ ঘণ্টায় মূল্যায়ন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি এমনভাবে করা হচ্ছে তাতে শিক্ষার্থীরা চাপ অনুভব করবে না। আর এই পাঁচ ঘণ্টায় শিক্ষার্থীরা কেবল লিখিত পরীক্ষাও দেবে না। তারা নানা রকম হাতে–কলমে কাজেও নিয়োজিত থাকবে এবং বিরতিও থাকবে।

যেভাবে প্রশ্নপত্র তৈরি হবে

এনসিটিবির খসড়া মূল্যায়ন কাঠামো অনুযায়ী, বরাদ্দ করা সময় এবং শিক্ষার্থীর সক্ষমতা বিবেচনা করে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নপত্র তৈরি হবে। শিক্ষা বোর্ডের নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নপত্র প্রণয়নকারী ও পরিশোধনকারীরা (মডারেটর) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, চেক লিস্টসহ প্রশ্নপত্র তৈরি করবেন। এই চেক লিস্টে দুটি অংশ থাকবে। পর্যবেক্ষণ ছক, যা প্রত্যাবেক্ষক (পরীক্ষার কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক) কেন্দ্রে শিক্ষার্থীর পারদর্শিতা (উপস্থাপন, প্রদর্শনী ইত্যাদি) পর্যবেক্ষণ করে একটি অংশ পূরণ করবেন। আরেকটি অংশ পরীক্ষক লিখিত মূল্যায়ন করে পূরণ করবেন।

পরীক্ষক কোনো শিক্ষার্থীর পর্যবেক্ষণ ছকে প্রাপ্ত তথ্য এবং লিখিত উত্তরপত্র মূল্যায়ন ছকের তথ্য বিবেচনা করে নৈপুণ্য অ্যাপের (মূল্যায়নের ফলাফলের তথ্য সংরক্ষণ হয় এই অ্যাপে) পারদর্শিতার নির্দেশকে (পিআই) ইনপুট দেবেন। তাতে এখনকার মতো নম্বর দেওয়ার ব্যবস্থা নেই।

এনসিটিবি বলছে, প্রতিটি পরীক্ষার শুরুতে শিক্ষার্থীর কী কী পারদর্শিতা মূল্যায়ন করা হবে, তা দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট জানিয়ে দেবেন। বিষয়ের ভিন্নতা অনুযায়ী কাগজ, পরীক্ষণ, মডেল, নকশা, গ্রাফ ইত্যাদি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের ব্যবস্থা থাকবে পরীক্ষার কেন্দ্রে। শিক্ষা বোর্ডই কেন্দ্র ঠিক করবে। তবে শিক্ষার্থীদের নিজ প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্র হবে না। এখনকার মতো অন্য প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্র হবে। মোদ্দাকথা, পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থাপনার কাজটি এখনকার মতোই শিক্ষা বোর্ডগুলো করবে।

এদিকে পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আগেই ‘রিসোর্স পুল’ গঠন করা হবে। আগামী মে মাসে কর্মশালার মাধ্যমে তাদের প্রস্তুত করা হবে।

শিক্ষার্থীর বৈচিত্র্য, চাহিদা ও সক্ষমতা বিবেচনা করে মূল্যায়ন বা পরীক্ষা কার্যক্রমের কৌশলে নমনীয়তা ও বিকল্প উপায়ও রাখা হবে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি।
নবম শ্রেণির ভিত্তিতে নিবন্ধন

এখন একজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারবে কি না, সেটি নির্ভর করে দশম শ্রেণিতে হওয়া নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষার ভিত্তিতে। কিন্তু নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে একজন পরীক্ষার্থী দশম শ্রেণি শেষে পাবলিক পরীক্ষা দিতে পারবে কি না, সেটি নির্ভর করবে নবম শ্রেণিতে বিদ্যালয়ে হওয়া শিখনকালীন মূল্যায়নের ওপর। যদি কোনো শিক্ষার্থী নবম শ্রেণিতে শিখনকালীন মূল্যায়নে ভালো করে, তাহলে দশম শ্রেণিতে উঠবে এবং তার আলোকে নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) হবে। তারাই পাবলিক পরীক্ষা দেবে। এখনকার মতো নির্বাচনী পরীক্ষা হবে না। তবে দশম শ্রেণিতেও শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে।

এনসিটিবি বলছে, দশম শ্রেণির শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে এনসিটিবি প্রণীত নির্দেশিকা অনুসরণ করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকেরা শিখনকালীন মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। প্রতিটি শিখন অভিজ্ঞতা শেষে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক প্রমাণের ভিত্তিতে পারদর্শিতার নির্দেশক (পিআই) অনুযায়ী নৈপুণ্য অ্যাপে ইনপুট দেবেন এবং প্রমাণগুলো সংরক্ষণ করবেন। তারপর শিক্ষা বোর্ড নির্বাচিত বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়নকারীরা (সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরের) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে দৈবচয়নের ভিত্তিতে নমুনা নিয়ে শিখনকালীন মূল্যায়নের প্রমাণ যাচাই করবেন।

সাত স্কেলে রিপোর্ট কার্ড

এনসিটিবি খসড়া মূল্যায়ন কাঠামো অনুযায়ী, মূল্যায়ন বা পরীক্ষা শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্রান্সক্রিপ্ট ও রিপোর্ট কার্ড তৈরি হবে। ট্রান্সক্রিপ্টে একজন শিক্ষার্থী প্রতিটি বিষয়ে পারদর্শিতা কতটুকু অর্জন করল, তার তথ্য উল্লেখ থাকবে। আর রিপোর্ট কার্ডে শিখনকালীন মূল্যায়ন ও পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়নের জন্য আলাদাভাবে সাতটি স্কেলে ফলাফল প্রকাশিত হবে। সাতটি ছকের মাধ্যমে এই সাতটি স্কেল বোঝানো হয়েছে। নির্ধারিত পারদর্শিতা অনুযায়ী ছকগুলো পূরণ করা হবে। তাতে যোগ্যতা অনুযায়ী কোনো শিক্ষার্থীর ছয়টি ঘরও পূরণ হবে, আবার কারও বেলায় তা কমবেশি হবে। ধরা যাক, একজন শিক্ষার্থী নির্ধারিত সূচক অনুযায়ী ছয়টি পারদর্শিতা (পারফরম্যান্স) অর্জন করেছে, তাহলে ছয়টি ছক পূরণ করে বাকি একটি খালি রাখা হবে। এই রিপোর্ট কার্ডই সনদ হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিন বিষয়ে বেশি খারাপ করলে কলেজে উত্তীর্ণ নয়

নতুন মূল্যায়ন কাঠামোর খসড়া তৈরির সঙ্গে যুক্ত একজন শিক্ষক বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যদি তিনটি বিষয়ে পারদর্শিতার প্রারম্ভিক স্তরে থাকে, তাহলে তারা ওপরের ক্লাসে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে না। অর্থাৎ দশম শ্রেণি শেষে যে পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, তাতে কোনো শিক্ষার্থী তিন বিষয়ে এমন বেশি খারাপ করলে সে কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে না।

শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, মূল্যায়নে মিশ্র পদ্ধতি হতে পারে। কিন্তু সেটি অবশ্যই কার্যকরভাবে করতে হবে। লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন এমনভাবে করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীর জ্ঞান, বুঝতে ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা ইত্যাদি যাচাই করা যায়। আর ধারাবাহিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হবে।

র্শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৮/০৩/২০২৪

]]>
https://hgh.edu.bd/2024/03/29/%e0%a6%8f%e0%a6%b8%e0%a6%8f%e0%a6%b8%e0%a6%b8%e0%a6%bf-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ac/feed/0
৬ষ্ঠ থেকে ১২শ শ্রেণির উপবৃত্তির অর্থ বিতরণhttps://hgh.edu.bd/2024/03/20/%e0%a7%ac%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%a0-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a7%a7%e0%a7%a8%e0%a6%b6-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87/https://hgh.edu.bd/2024/03/20/%e0%a7%ac%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%a0-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a7%a7%e0%a7%a8%e0%a6%b6-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87/#respondWed, 20 Mar 2024 15:41:37 +0000https://hgh.edu.bd/?p=1180উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রোক্ত স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় বাস্তবায়নাধীন সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় ৬ষ্ঠ থেকে ১২শ ও সমমান শ্রেণিতে উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে জুলাই-ডিসেম্বর/২০২৩ কিস্তির উপবৃত্তির অর্থ HSP-MIS সফটওয়‍্যারের বিদ্যমান ‘নগদ’ ও ব্যাংক হিসাবধারী ব্যতীত অন্যান্য সকল উপকারভোগীর ‘নগদ হিসাব’ খোলার পরে উপবৃত্তির অর্থ বিতরণ করার বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
এমতাবস্থায়, HSP-MIS সফটওয়্যারের বিদ্যমান ‘নগদ’ ও ব্যাংক হিসাবধারী সুবিধাভোগী ব্যতীত অন্যান্য সকল উপকারভোগীর ‘নগদ হিসাব’ খোলার পরে জুলাই-ডিসেম্বর/২০২৩ কিস্তির উপবৃত্তির অর্থ বিতরণ করা হবে। বিষয়টি উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাঁর উপজেলা/থানাধীন সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানগণকে অবহিত করবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং শ্রেণি শিক্ষক উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী/অভিভাবককে বিষয়টি অবহিত করবেন।

]]>
https://hgh.edu.bd/2024/03/20/%e0%a7%ac%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%a0-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a7%a7%e0%a7%a8%e0%a6%b6-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87/feed/0
রমজানে খোলা থাকবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানhttps://hgh.edu.bd/2024/03/12/%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%96%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be/https://hgh.edu.bd/2024/03/12/%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%96%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be/#respondTue, 12 Mar 2024 09:23:43 +0000https://hgh.edu.bd/?p=1162রমজান মাসজুড়ে স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিলেন তা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আপিল বিভাগের আদেশের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়সমূহের শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখার যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল সেটি বহাল থাকছে।

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের জানান, ১১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত মোট ১৫ দিন সরকারি/বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের শ্রেণি কার্যক্রম চালু থাকবে।

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ ১০ রমজান পর্যন্ত খোলা থাকবে।
এর আগে রোববার (১০ মার্চ) পুরো রমজানজুড়ে স্কুল বন্ধ রাখার আদেশ দেন হাইকোর্ট। এই আদেশের বিরুদ্ধে সোমবার আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। সোমবার বিকেলের দিকে শুনানিতে স্কুল খোলা রাখার বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা এ এম আমিন উদ্দিন।

এসময় চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম প্রশ্ন রাখেন, এই কদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকলে কী এমন অসুবিধা হবে? পরে উচ্চ আদালতের আদেশ স্থগিত না করে মঙ্গলবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য করা হয়। পরে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন।

]]>
https://hgh.edu.bd/2024/03/12/%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%96%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be/feed/0
রমজানে সব স্কুল বন্ধ: হাইকোর্টhttps://hgh.edu.bd/2024/03/10/%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%ac-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%95/https://hgh.edu.bd/2024/03/10/%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%ac-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%95/#respondSun, 10 Mar 2024 09:44:19 +0000https://hgh.edu.bd/?p=1160পবিত্র রমজান মাসে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে বলে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। রোববার (১০ মার্চ) দুপুরে বিচারপতি কামরুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।এর আগে, রমজানে স্কুল খোলা রাখার যে প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল তা-ও স্থগিত করেন হাইকোর্ট।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের শিক্ষণ ঘাটতি পূরণকল্পে ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি আংশিক সংশোধনপূর্বক আসন্ন পবিত্র রমজানের প্রথম ১০ দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে, আগামী ১১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত মোট ১৫ দিন সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর ২০২৪ সালের (১৪৩০-১৪৩১ বঙ্গাব্দ) শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি আংশিক সংশোধন করা হয়েছে।এ বিষয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রমজানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল।

রিটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, শিক্ষা সচিব, উপসচিব প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, উপসচিব শিক্ষা সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি), শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালককে বিবাদী করা হয়।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১২ মার্চ থেকে রোজা শুরু হবে।

]]>
https://hgh.edu.bd/2024/03/10/%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%ac-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%95/feed/0
মূল্যায়ন পদ্ধতিতে যে পরিবর্তন আসতে পারেhttps://hgh.edu.bd/2024/03/02/%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%ae%e0%a7%82%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%a8/https://hgh.edu.bd/2024/03/02/%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%ae%e0%a7%82%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%a8/#respondSat, 02 Mar 2024 14:26:19 +0000https://hgh.edu.bd/?p=1125নতুন কারিকুলামে নম্বরভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি না রাখায় শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে অসন্তোষ রয়েছে। তারা নতুন কারিকুলাম মেনে নিলেও মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তন চাইছেন। অর্থাৎ হাতে-কলমে লিখিত পরীক্ষার দাবি উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামীকাল শনিবার (২ মার্চ) দুপুর ২টায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে দেশের সব শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, শনিবারের বৈঠককে কেন্দ্র করে এর মধ্যে ‘পাবলিক পরীক্ষায় কীভাবে মূল্যায়ন হতে পারে’ শিরোনামে একটি প্রস্তাবনা প্রস্তুত করেছে এনসিটিবি। শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে বৈঠকে সেই প্রস্তাবনা তুলে ধরা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বৈঠকেই নতুন কারিকুলামের মূল্যায়ন কীভাবে করা হবে তা অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যাবে।

এদিকে গত ৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় নতুন কারিকুলামের বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন এবং পাঠ্যপুস্তক বিতরণ ও মনোন্নয়নের বিষয়ে একটি সভা হয়। এতে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত করার সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে ১৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই বিভাগের সরকারি মাধ্যমিক শাখার একজন যুগ্ম সচিবকে সদস্য সচিব করে তৈরি করা কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- কারিগরি, মাদ্রাসা ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ৩ মহাপরিচালক, এনসিটিবির চেয়ারম্যান, মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক-১ শাখার যুগ্ম সচিব, কারিগরি বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয় শাখার একজন যুগ্ম সচিব, আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান, ব্যানবেইসের পরিচালক, এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক) অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমান এবং পরীক্ষা ও মূল্যায়ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ রবিউল কবীর চৌধুরী।

জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, নতুন কারিকুলামের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষা যুক্ত হবে কিনা তা আগামী শনিবার বৈঠকের পর বোঝা যাবে। এদিনের বৈঠকে এনসিটিবির চেয়ারম্যান এবং মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞদের সামনেই নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন এবং মূল্যায়ন নিয়ে বোর্ড চেয়ারম্যানরা বক্তব্য দেবেন।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম বলেন, এটা ঠিক যে নতুন কারিকুলামের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে কিছুটা জটিলতা আছে। বোর্ড চেয়ারম্যানদের মতামত নিয়ে বাকি পথ এগুতে হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বোর্ড চেয়ারম্যান বলেছেন, নতুন কারিকুলামে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কিছু অংশ নিয়ে লিখিত পরীক্ষা থাকা উচিত বলে শনিবারের বৈঠকে তুলে ধরবেন।

তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন কারিকুলামে লিখিত পরীক্ষা থাকা না-থাকা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর মতামত চাইলেও তিনি এখনো দেননি। উল্টো তিনি বিষয়টি নিয়ে বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলতে বলেছেন। মূলত শিক্ষামন্ত্রীর এমন নির্দেশনার পরই এনসিটিবি ও শিক্ষা বোর্ড বৈঠকে বসতে যাচ্ছে।

নতুন কারিকুলাম, পাঠ্যবই ও মূল্যায়ন পদ্ধতি : নতুন কারিকুলামের মূল কথা হচ্ছে- অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাক্সিক্ষত যোগ্যতা অর্জন। কারিকুলামে প্রতিটি বিষয়ের জন্য কিছু শিখনযোগ্যতা নির্ধারিত হয়েছে। যোগ্যতা বলতে পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়ানোর জন্য জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে অর্জিত সক্ষমতাকে বোঝানো হয়েছে।

যোগ্যতা অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদের বেশ কিছু কার্যক্রমের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। নতুন শিক্ষাক্রমের অধীন পাঠ্যবইগুলো তৈরি করা হয়েছে অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখন প্রক্রিয়ার উপযোগী করে। স্বভাবতই বইগুলোকে তত্ত্বভারাক্রান্ত না করে জোর দেয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধিৎসু করে তোলার প্রতি। প্রতিটি যোগ্যতা অর্জনের মাপকাঠি হিসেবে কিছু পারদর্শিতার সূচক (পিআই) নির্ধারণ করেছেন কারিকুলাম বিশেষজ্ঞরা। প্রতিটি সূচকে শিক্ষার্থীর অবস্থান চিহ্নিত করার জন্য ৩টি করে মাত্রা নির্দেশ করা হয়েছে। এসব মাত্রার মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব হয় শিক্ষার্থীর সক্ষমতা পারদর্শিতা সূচকের কোন স্তরে রয়েছে এবং কাক্সিক্ষত যোগ্যতা অর্জন করতে হলে তাকে ফলাবর্তনের আওতায় আনতে হবে কিনা।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, শিক্ষার্থী-মূল্যায়নের জন্য প্রচলিত পরীক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তে অভিনব কিছু পদ্ধতি নিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে অনুসন্ধান, দলগত আলোচনা, প্রশ্ন-উত্তর, কুইজ, বিতর্ক, ভূমিকাভিনয়, কেস স্টাডি, প্রকল্প, প্রতিবেদন ইত্যাদি।

এরই মধ্যে বিশেষজ্ঞরা শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য ২ ধরনের মূল্যায়ন পদ্ধতি নির্ধারণ করেছেন-

১. শিখনকালীন মূল্যায়ন

২. সামষ্টিক মূল্যায়ন।

শিখনকালীন মূল্যায়ন শ্রেণিকক্ষে এবং শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিখন-শেখানো কার্যক্রম চলাকালেই ধারাবাহিকভাবে শেষ হবে। আর নির্দিষ্ট শিখনযোগ্যতাগুলোর ওপরে সামষ্টিক মূল্যায়ন শেষ হবে বছরে দুবার। ষান্মাসিক ও বাৎসরিক- এ দুটি প্রান্তিকে।

সামষ্টিক মূল্যায়ন পদ্ধতির সংস্কার প্রস্তাবনা :

নতুন কারিকুলামের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে আগের মতো লিখিত পরীক্ষা রাখা হয়নি। শিক্ষার্থীদের নম্বর দানের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না; কেবল পারদর্শিতার সূচকের ৩টি মাত্রাকে জ্যামিতিক চিহ্ন দিয়ে প্রকাশ করা হচ্ছে, যার সঙ্গে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ পরিচিত নয়। ফলে এ মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষাবিদসহ সব মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কারিকুলাম খুবই আধুনিক ও যুগোপযোগী। বর্তমান পাঠ্যবইগুলোও শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশের জন্য সমৃদ্ধভাবে তৈরি করা হয়েছে। বছরে কেবল দুবার পরীক্ষার পরিবর্তে সারা বছরব্যাপী যে ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রচলন করা হয়েছে সেটিও শিক্ষার্থীদের শিখন অগ্রগতির জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে সামষ্টিক মূল্যায়নে লিখিত পরীক্ষা অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে কিছুটা পরিবর্তন আনা হলে তা শিক্ষার্থীদের জন্য আরো কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সন্তানের লেখাপড়া নিয়ে অভিভাবকদের উৎকণ্ঠাও অনেকাংশে দূর হবে। নতুন কারিকুলামের পাঠ্যবই এবং শিখন-শেখানো পদ্ধতি অক্ষুন্ন রেখেই কেবল সামষ্টিক মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হলে এ জটিলতার কাটানো সম্ভব।

কারিকুলামে লিখিত পরীক্ষার যৌক্তিকতা :

নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থী-মূল্যায়নের জন্য অভিনব কিছু পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- অনুসন্ধান, দলগত আলোচনা, প্রশ্ন-উত্তর, কুইজ, জরিপ, বিতর্ক, ভূমিকাভিনয়, কেস স্টাডি, সৃজনশীল লিখন, প্রদর্শন, প্রকল্প, প্রতিবেদন ইত্যাদি। উল্লিখিত প্রশ্ন-উত্তর, কুইজ, ইত্যাদি পদ্ধতি মৌখিক এবং লিখিত- উভয়ভাবেই হতে পারে। সৃজনশীল লিখন, প্রতিবেদন ইত্যাদিও স্বভাবতই লিখিতভাবে উপস্থাপনের বিষয়। সর্বোপরি, লিখিত পরীক্ষার কথা নাকচ করা হয়নি কারিকুলামে। বরং শুধু লিখিত পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আরো নানা পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থী-মূল্যায়নকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

কিন্তু সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা না করেই লিখিত পরীক্ষা পরিহার করার কারণে অভিভাবক, শিক্ষকসহ সচেতন নাগরিক সমাজে অসন্তোষ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

বর্তমান কারিকুলামের মূল লক্ষ্য হচ্ছে- শিখনযোগ্যতা অর্জন। যোগ্যতা অর্জনের মাপকাঠি হিসেবে কতিপয় পারদর্শিতার সূচক (পিআই) নির্ধারণ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিটি সূচকে ৩টি করে মাত্রা নির্দেশ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে যাচাই করা হবে শিক্ষার্থীর পারদর্শিতা। লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমেও এ ধরনের যাচাই পরিপূর্ণভাবে করা সম্ভব। এক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নগুলো হতে হবে পিআই ভিত্তিক এবং তা মূল্যায়নের নির্দেশনাও সরবরাহ করতে হবে পরীক্ষককে।

যেভাবে লিখিত পরীক্ষা হতে পারে :

নতুন কারিকুলামে যে শিখনকালীন মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে সেটি অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বছরে কেবল দুবার পরীক্ষার পরিবর্তে সারা বছরব্যাপী ধারাবাহিক মূল্যায়নের এ পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের শিখন অগ্রগতির জন্য ফলপ্রসূ। এই পদ্ধতিতে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য যে ফলাবর্তনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে তা শ্রেণিকক্ষের সব শিক্ষার্থীর সমন্বিত অগ্রসরমানতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এক্ষেত্রে বিশ্লেষকরা বলেছেন, শিখনকালীন মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে বহাল রেখে সামষ্টিক মূল্যায়নের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়া দরকার। শিখনকালীন ও সামষ্টিক মূল্যায়নের সমন্বয়ে যে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা হবে সেখানে শিখনকালীন মূল্যায়নের অর্জনকে ৪০ শতাংশে রূপান্তর করে, এর সঙ্গে সামষ্টিক মূল্যায়নের ৬০ শতাংশ অর্জনকে ধরে চূড়ান্ত মূল্যায়নের ট্রান্সক্রিপ্ট প্রস্তুত করা যেতে পারে। সামষ্টিক মূল্যায়নে সব শিখনযোগ্যতার ওপর মূল্যায়ন হওয়া আবশ্যক। তাহলে শিক্ষার্থীরা বছরের শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি পাঠ অনুশীলন করবে এবং তাদের যাচাইও হবে যথার্থভাবে। সামষ্টিক মূল্যায়ন অবশ্যই নম্বরভিত্তিক হতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি প্রান্তিকে ৬০ নম্বরের ওপর লিখিত পরীক্ষা হওয়া সর্বাধিক যুক্তিযুক্ত। পরে এ নম্বরকে পিআইয়ের মাত্রায় রূপান্তর করে নৈপুণ্য অ্যাপে ইনপুট দেয়া যাবে। নম্বরভিত্তিক পরীক্ষা নেয়া হলে শিক্ষার্থীর খাতা দেখে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। শিক্ষকরা সব ধরনের প্রভাবমুক্ত থাকতে পারবেন। অভিভাবকরাও প্রয়োজনবোধে প্রতিটি প্রান্তিকে সন্তানের খাতা দেখে তাদের মূল্যায়ন সম্পর্কে নিশ্চিন্ত হতে পারবেন। আবার, এই নম্বরকে পিআইয়ের মাত্রা অনুযায়ী ইনপুট দেয়ার ফলে মূল্যায়নের প্রক্রিয়ায় বিশেষ কোনো পরিবর্তন আনতে হবে না। সব মিলিয়ে পরীক্ষা না থাকার কারণে অভিভাবক, শিক্ষকসহ সচেতন নাগরিক সমাজে যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে তারও নিরসন হবে।

লিখিত পরীক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে বর্তমানের মতোই ষান্মাসিক ও বাৎসরিক সামষ্টিক মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হবে। সারাদেশে নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্রের ওপর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিকভাবে বোর্ড কর্তৃক প্রশ্নপত্র প্রণীত হবে। বর্তমানে বিভিন্ন নির্বাচনী পরীক্ষার জন্য যশোর বোর্ড প্রশ্নপত্র সরবরাহ করছে অধীনস্থ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে। বিষয়ভিত্তিক আদর্শ প্রশ্নপত্র প্রণয়ন নিশ্চিত করার জন্য প্রথম ৩ বছর এরূপ করা যেতে পারে। এর মধ্যে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে হবে, যেন তারা নিজেরাই নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রশ্ন তৈরি করতে পারেন। পরীক্ষার পূর্ণমান হবে ৬০। সময় ৩ ঘণ্টা। সারাদেশে একই রুটিন অনুযায়ী একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা অনুষ্ঠানের কিছুদিন পূর্বে বিষয়ভিত্তিক সময়সূচি প্রকাশ করবে বোর্ড।

]]>
https://hgh.edu.bd/2024/03/02/%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%ae%e0%a7%82%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%a8/feed/0